ফাহিম হোসেন রিজু,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আলুর বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা দরে। বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বিনিয়োগ হারানো শঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে সার, বীজ, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজার দরে এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করে খরচের অর্ধেক টাকাও তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, বিঘা প্রতি খরচ: ৩০,০০০ টাকা (গড়ে), বর্তমান বাজার দর: ৫ টাকা/কেজি, প্রয়োজনীয় দর: অন্তত ১৫-১৮ টাকা (আসল টাকা তুলতে)
উপজেলার একজন প্রান্তিক চাষী জানান, “অনেক আশা নিয়ে আলু আবাদ করেছিলাম। ভেবেছিলাম এবার দেনা শোধ করব। কিন্তু ৫ টাকা কেজি দরে আলু বেচলে শ্রমিকের দামও উঠছে না। এখন আলু মাঠ থেকে তুলব না কি মাঠেই পচতে দেব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”
আরেকজন কৃষক বলেন, “৩০ হাজার টাকা খরচ করে যদি ৫-৭ হাজার টাকার আলু বিক্রি করতে হয়, তবে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে আলুর অতিরিক্ত সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারের অভাব এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অনেক চাষী বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ আলু না তুলে খেতেই রেখে দিচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারিভাবে আলু ক্রয় অথবা বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে আগামীতে আলু চাষে কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে বিশেষ প্রণোদনার দাবিও তুলেছেন স্থানীয় কৃষি সংগঠনগুলো।