নূর ই ইলাহী দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি : দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবারীর যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। সম্প্রতি যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে সড়কটি। সড়কের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে বিলীন হওয়ার পথে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী সরঞ্জাম সরবরাহেও পরতে পারে প্রভাব।
সরজমিনে দেখা গেছে, হুদার মোড় এলাকায় সড়কের একটি অংশ পানির স্রোতে ধসে গেছে। মাটি সরে গিয়ে পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ফাটল। রাস্তার একটি অংশ এখন বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন দ্রুতগতিতে বিস্তৃত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়কটির প্রায় ৫০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে খোলাবারী ও পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবারী ইউনিয়নসহ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে, যা হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।
নদীভাঙ্গনে শুধু সড়ক নয়, ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে নদীপাড়ের শত শত পরিবার। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তির দাবিতে সম্প্রতি চিকাজানী ইউনিয়নের চর ডাকাতিয়া পাড়া গ্রামের নদীতীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষজন। তারা দ্রুত নদীশাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক ও জনপদ রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলে ভাঙ্গন মোকাবেলার চেষ্টা করা হলেও তা প্রবল স্রোতের কাছে যথেষ্ট নয়। একটি স্থায়ী সমাধানই কেবল এ জনপদকে রক্ষা করতে পারে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক এবং নদীর তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় অর্থনীতি। নদীর ভাঙ্গন ঠেকানো না গেলে হুমকির মুখে পড়বে কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা।