নাঈম হোসন দূর্জয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেধাভিত্তিক সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। নির্ধারিত মেরিট না থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ আবাসিক হলে অবস্থান করছেন, এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল সংসদ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির কলা অনুষদের বাংলা বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অমিত হাসান ও একই বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কাজী শিহাব কোনো আনুষ্ঠানিক সিট বরাদ্দ ছাড়াই শাহ আমানত হলের ১০৭ নম্বর এবং হলের এক্সটেনশন ভবনের বি–৪ নম্বর কক্ষে ‘গ’ নং সিটে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। অথচ ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এছাড়াও প্রায় এক মাস আগে অমিত হাসান ও কাজী শিহাব কে শাহ আমানত হল সংসদ হল থেকে বের করে দেয়। এরপরও তারা পুনরায় হলটিতে অবস্থান শুরু করেন। তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়টির কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শিক্ষার্থী হলেও বিজ্ঞান অনুষদের জন্য অনুমোদিত শাহ আমানত হলে অবস্থান করে আসছেন।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত শিক্ষার্থীদের আশেপাশের কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী অমিত হাসান ও কাজী শিহাবের আচরণ অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো ছিল না। তারা ছিলেন উদ্ধত, অসামাজিক এবং আবাসিক হলের নিয়মকানুনের প্রতি উদাসীন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেধাভিত্তিক সিট বরাদ্দের ঘোষণা এলেও বাস্তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে সমালোচনার ঝড় যার দরুন শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের বাড়ছে বৈপরীত্য। ব্যক্তিগত পরিচয় ও প্রভাবের মাধ্যমে মেরিটের পিছনে থাকলেও কেউ কেউ হলে অবস্থান করছে এবং মেরিটে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা আবাসন ব্যবস্থার বাহিরে থেকেই পড়াশোনা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে শাহ আমানত আবাসিক হলের প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন কিনা এ বিষয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা এবং কি অনুমোদিত সিট বরাদ্দ বিহীন অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হল কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ার মত নয়।
এ বিষয়ে শাহ আমানত হল সংসদের জিএস আবিদ গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের নজরে আসা মাত্রই আমরা মিটিং করে সিট হোল্ডার কে ফোন দিয়ে অবস্থানরত দুই শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে দিতে বলি। তারা চলে গেলেও আবারও কয়েকদিন পর ফিরে আসে।” তিনি আরও বলেন, “শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে হল প্রশাসন এক্ষেত্রে কিছুটা উদাসীন।”
বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বরাদ্দকৃত শাহ আমানত হলে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শিক্ষার্থী হয়েও কি উপায় থাকছেন মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ, অমিত হাসান ও কাজী শিহাব তা জানতে তাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কাজী শিহাব জানান, “আমি তো হলে থাকি না ভাই, আপনার এটা কোথাও ভুল হচ্ছে।” অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ ফোন কল রিসিভ করেও বিস্তারিত কিছু না বলেই ফোনটি কেটে দেন এবং অমিত হাসানকে একাধিকবার মুঠ ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শাহ আমানত হলে অবস্থানরত কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের হলের সিটে বসবাসের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে হলটির প্রভোস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ মুনিরুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
..